Link copied!
Sign in / Sign up
9
Shares

একটি আদুরে বা লাই দেওয়া শিশুর লক্ষণ : সতর্কতা , সাবধানতা

আদর দেয়া বা লাই দেয়া কে সংজ্ঞায়িত করে বলা হয় - বিশেষ যত্নে , স্বাচ্ছন্দে এবং উদারতার সঙ্গে কাউকে লালিত পালিত করা। কিন্তু দেখা গেছে যে এই অত্যধিক সম্পন্নতার সঙ্গে লালন পালন আখেরে বাচ্চার ওপর বিপরীত প্রভাব ফেলে থাকে যা বাঞ্চনীয় নয়। প্রশ্রয় পাওয়া বাচ্চা বড় হয়ে একগুঁয়ে, স্বার্থপর ও অন্যের মনোযোগ আকর্ষণ প্রিয় ব্যক্তিতে পরিণত হয়। আর সব থেকে জরুরি কথা হচ্ছে যে আপনার বাচ্চা যে এভাবে একটি নষ্ট ছোড়া তে পরিণত হয়ে যাচ্ছে তা আপনাকে চোখে আঙ্গুল দিয়ে দেখলেও আপনি দেখতে পাবেন না। সুতরাং, এখানে তালিকাভুক্ত করা কিছু লক্ষণ পড়ে বুঝুন আপনার শিশুটি প্রশ্রয় পাওয়া বাচ্চা হয়ে উঠছে কিনা :

১. শিশুটি কোনোকিছু ও সবকিছু মঞ্জুরীর মাত্রায় গ্রহণ করছে

২. শিশুটি কোনো শক্ত বা কষ্টকর জিনিস শেখার চেষ্টা করছে না , ভাবছে যে আপনি বা অন্য কেউ তার জন্য সেটা করে দেবে

৩. বাচ্চা আশপাশের নিম্নবৃত্ত লোককে উপেক্ষা করতে আরম্ভ করে

৪. বাচ্চা তার যা কিছু চাহিদা তা পাওয়ার জন্য যে কোনো সীমা পার করতে পারে। এই স্বভাব একটি ছোট মিথ্যা কথা দিয়ে শুরু করে পুরোপুরি বদমেজাজিপনা বা বায়নাক্কাতে পরিণত হতে পারে আপনি যদি তার ইচ্ছা পূর্ণ না করেন।

৫. শক্ত ভাবে বুঝিয়ে দিলেও সন্তান কোনো বেপারে তার মতামত পরিবর্তন করে না।

৬. শিশুটি সবসময় তার সমবয়সীদের তুলনায় অনেক বেশি জিনিসের অধিকারী হতে চায় এবং স্বয়ংসম্পূর্ণতার বিষয়টা মোটেই বুঝতে চায় না।

৭. সন্তানের মনোযোজের তাল খুবই বিক্ষিপ্ত এবং ক্রমাগত তার চারপাশে ঘটা জিনিস তাকে বিরক্ত কিংবা উদাসীন করে।

৮. শিশুটিকে যা দেওয়া হয় তার মর্ম উপলব্ধি সে কিছুতেই করে না এবং সবসময় আরো ভাল জিনিস পাওয়ার ওপর তার ঝোঁক বেড়েই চলে।

আপনার সন্তানের যদি এই উপসর্গগুলির একাধিক লক্ষণ দেখা যায় তবে জেনে নিন যে এই হলো ঠিক সময় আপনার প্যারেন্টিং কৌশলগুলি সম্বন্ধে পুনর্বিবেচনা করুন। আপনার সন্তানের প্রতিটি অনুরোধে তার চিহিদা পূরণ করলে পাম্পারিং বা প্রশ্রয় দেওয়া শুরু হয়, এ কথাটি অযৌক্তিক শোনালেও মিথ্যে নয়।

বস্তুগত জিনিসগুলি যদি আপনি যে ভাবে হোক জোগাড় করে দেন আপনার বাচ্চার জন্য তাহলে সে নির্ঘাত একটি প্রশ্রয় পাওয়া জেদি এবং বদমেজাজি বাচ্চাটা পরিণত হবে। অবশ্যই, আপনার সন্তানের প্রিয় খেলনা বা নরম কম্বল কিনতে আপনার দ্বিধা করা উচিত না কিন্তু যখন এটি যখন স্নেহ ভালোবাসা মমতা থেকে একটু বেশির দিকে ঝুকে যায় তখন তা আপনার বাচ্চাকে ভালোরে জায়গায় মন্দতে পরিণত করছে - এতে তাই বেশ সমস্যা আছে।

এমনকি যখন আপনি হুমকি দেন তাকে ভর্ৎসনা করবার এবং অবশেষে তা না করেন তাহলে সে আপনাকে ধর্তব্যের মধ্যে জ্ঞান করে না , আপনার বকুনি উড়িয়ে দেয় । আপনার সন্তান আপনাকে আরো বেশি নরমভাবে গ্রহণ করবে তাই আপনার যে কোনো বকুনি বা শাস্তির ভয় তার ভেতরে থাকবে না। সে এও মনে করতে শুরু করবে যে তার কৃতকাজের কোন দুষফলাফলই নেই। খালি হুমকি অনেক সময় কাজ করলেও এক্ষেত্রে সবসময় কাজ করবে না। তাই আপনি সর্বদা তার বেবহার থেকে বিরত থাকুন । ধরুন আপনি বললেন - 'যদি তুমি এখুনি উঠে পড়ে দাঁত ব্রাশ না করো , তাহলে আমি এই সপ্তাহে তোমাকে চকোলেট দিচ্ছি না', এবং ঠিক এটাই করে এবং এটি করার জন্য নিজেকে দোষী কখনোই মনে করবেন না।

বাবা-মায়েরা প্রায়ই তাদের বাচ্চাদের মানবিক আবেগ থেকে রক্ষা করে থাকে যার ফলে তারা পরবর্তী জীবনের জটিলতা ও দুরূহ আবেগের সাথে মোকাবিলা করার জন্য এমন কোনো দক্ষতা অন্বেষণ করে না যা তাদের সেইসময় প্রয়োজন হয়। এখানে একটা ভারসম্য বজায় রাখা বাঞ্ছনীয় যাতে বাচ্চারা ক্ষতিগ্রস্ত না হয় অথচ এই বেপারগুলি সম্বন্ধে সচেতন হয়ে ওঠে।

এছাড়াও, আপনি আপনার বাচ্চাকে আপনি ঠিক কোন কোন নিয়ম অনুসরণ করবেন তার আশা রাখেন সেটি আপনার বাচ্চাকে পরিষ্কার করে বুঝিয়ে দিন। যাই হোক না কেন, বাচ্চারা সবসময় আপনার ব্যবহারে একটা সামঞ্জস্য খোঁজে এবং প্রায়ই তারা প্রাপ্তবয়স্কদের আচরণ দ্বারা বিভ্রান্ত হয়।

Click here for the best in baby advice
What do you think?
0%
Wow!
0%
Like
0%
Not bad
0%
What?
scroll up icon