Link copied!
Sign in / Sign up
62
Shares

৮ মাস বয়সী শিশুর খাদ্য তালিকা

শিশুর আট মাস বয়স পার হয়ে যাওয়া হল বাবা মায়ের কাছে বেশ খুশীর খবর। পুচকেটি নিজেকে টেনে সোজা করতে চেষ্টা করে, চামচ চেপে ধরে, আগের মত সেই মায়ের দুধ এবং ফরমূলা দুধ খাওয়ার রুটিনে আগ্রহ হারিয়ে ফেলে। ছোট শিশুকে নতুন ধরণের বিভিন্ন খাবার খাওয়াতে শুরু করার জন্য মায়েদের কাছে এটাই সঠিক সময়। নীচে দেওয়া খাদ্যতালিকা অভিভাবকদের একটা পূর্ণাঙ্গ ধারণা দেবে যে ৮ মাস বয়সের শিশুর খাদ্য তালিকা তৈরি করতে হলে কি কি বিষয় মাথায় রাখতে হয়।

সোমবার- দুঃখিত শিশুরা! যদিও তোমরা মায়ের দুধ খেয়ে খেয়ে ক্লান্ত হয়ে পড়েছ, এখনও এটা বন্ধ করতে পারবে না। সুতরাং তোমাদের প্রাতরাশে একটা বড় খাদ্য হবে মাতৃদুগ্ধ। মধ্যসকালে শিশুটির পছন্দ অনুসারে রান্না করা গাজর/মাখা গাজর খাওয়া চলতে পারে। দুপুরে মুগডালের খিচুড়ি, পরে সন্ধ্যার আগে মায়ের দুধ, রাতে গাজর বা আলু মাখা এবং শুতে যাওয়ার সময় আবার মাতৃদুগ্ধ।

 

মঙ্গলবার- মঙ্গলবার, শিশুর খাবার দেওয়া হোক ভোরবেলা এবং প্রাতঃরাশে খাওয়ান হোক মাতৃদুগ্ধ। মাঝ সকালে তাকে আস্বাদন করতে দিন কাঁচা (সেদ্ধ না করা) আপেল বা থেঁতো করা আপেল। দুপুরে সে খাক সবজি ও ডালের স্যুপ, সন্ধ্যার আগে মায়ের দুধ আর পরে রাতের খাবারে মজাদার থেঁতো করা সবজী এবং চীজ। শেষে শুতে যাওয়ার সময় সে খাবে মাতৃদুগ্ধ।

 

বুধবার- আবারও মায়ের দুধ শিশুর ভোরবেলার এবং প্রাতরাশের মুখ্য খাবার হিসাবে রাখতে হবে। এটাই সেরা সময় যখন আপনি শিশুর খাদ্যতালিকাতে ডিম যোগ করতে পারেন, বুধবারের মাঝ সকালের খাবারে তাকে সেদ্ধ এবং থেঁতো করা ডিম খেতে দিন। দুপুরের খাবারকে সহজ রাখুন এবং ভাত-ডালের পরিজ দিন। এর পর সন্ধ্যার আগে মায়ের দুধ, রাতে গমের পরিজ এবং শুতে যাওয়ার সময় আবার মাতৃদুগ্ধ দিন।

 

বৃহস্পতিবার- শিশুকে ভোরবেলা এবং প্রাতঃরাশে দিন মায়ের দুধ ও মাঝ সকালে চূর্ণ করা পনীর। দুপুরে দিন সবজি ও ছানার মিশ্রন। রাতের খাবারকে সাধারণ রাখুন এবং শিশুকে দিন আপেল পরিজ। এছাড়াও সন্ধ্যার আগে এবং শুতে যাওয়ার আগে তাকে নিয়মমতো মাতৃদুগ্ধ খেতে দিন।

 

শুক্রবার- সপ্তাহের শেষ কাজের দিনে ভোরবেলা ও প্রাতরাশে খাওয়ান মায়ের দুধ, মাঝ সকালে তাকে আস্বাদন করতে দিন টোস্টেড ব্রেড ক্রুটন্‌স ও মাখন। দুপুরের খাবারের জন্য ঠিক করুন সবজী সহ মুগডালের খিচুড়ি এবং রাতের খাবারের জন্য রাখুন পাকা কলার পরিজ। সন্ধ্যার আগে এবং রাতে শুতে যাওয়ার আগে শিশুকে মায়ের দুধ খেতে দেওয়া জরুরী।

 

শনিবার- শনিবার, সপ্তাহন্তের ছুটির দিন, মায়েরা শিশুর খাবারে একটু বৈচিত্র্য আনুন; তাকে মাঝ সকালে দিন সুস্বাদু আপেল এবং গাজরের স্যুপ। তার আগের প্রাতরাশে এবং ভোরবেলা নিশ্চয় তাকে বুকের দুধ দেবেন। দুপুরের জন্য চটকান ভাত এবং টমেটো রসম তার কাছে বেশ সুস্বাদু হবে। এরপর দু তিন ঘন্টা কেটে যেতে দিন, সন্ধ্যার আগে শিশুকে মাতৃদুগ্ধ দিন। রাতে সেদ্ধ করা ধোসা বা ইডলি দিয়ে দিনের খাবার শেষ করুন, সবশেষে রাতে শুতে যাওয়ার আগে দেওয়া হোক মায়ের দুধ।

 

রবিবার- রবিবার শুরু হোক ভোর বেলা মায়ের দুধ দিয়ে। এর পরে প্রাতরাশে থাকবে বাড়িতে পাতা কয়েক চামচ দই এবং চিনি। দুপুরের খাবারে দিন শুখনো ডালিয়া খিচুড়ি, সন্ধ্যার আগে মায়ের দুধ ও রাতে সুজি বা আপেলের ক্ষীর। রাতে শোওয়ার আগে আবার দেওয়া হোক মাতৃদুগ্ধ।

 

মায়েদের মনে রাখতে হবে যে খাবারের পরিমানের প্রয়োজন এবং গ্রহণ ক্ষমতা বিভিন্ন শিশুর ক্ষেত্রে বিভিন্ন। পাঁচ থেকে ছয়বার খাবার পরে যদি আপনার শিশুর চাহিদা মিটে যায় তবে তার মধ্যে কোন আস্বাভাবিকতা নেই। এই খাদ্য বৈচিত্র্যের তালিকার অনুসরণ শিশুর পক্ষে সুখকর কেননা এর ফলে তাদের নতুন নতুন স্বাদের সঙ্গে পরিচয় ঘটবে। শিশুরা বিভিন্ন ধরণের খাবার খেতে শিখবে, তাদের বৃদ্ধি নিয়মিত হবে এবং তারা খাবারের স্বাদ-বৈচিত্র্য বুঝে নিজের পছন্দের খাদ্য তালিকা তৈরী করতে পারবে।

Click here for the best in baby advice
What do you think?
0%
Wow!
0%
Like
0%
Not bad
0%
What?
scroll up icon