Link copied!
Sign in / Sign up
24
Shares

আপনার শিশুকে কি ঘুম পাড়াতে সমস্যা হয়? কি করবেন তাহলে?

১. ঘুমের নির্দিষ্ট সময়সূচী বজায় রাখা

যদি আপনি প্রতিদিন আপনার বাচ্চাকে নির্দিষ্ট সময়ে ঘুম পাড়ান, তাহলে ঐ সময়ে অবশেষে প্রতিদিনই তারা ঘুমন্ত বোধ করবে। আপনার সন্তানের জন্যেও এই সময়সূচী বজায় রাখা গুরুত্বপূর্ণ। এর মাধ্যমে সহজেই আপনি তাদের ঘুমের প্রশিক্ষণ দিতে পারবেন, এবং এটি বাকি জীবনের জন্যেও একটি নিয়মিত ঘুমানোর সময় বজায় রাখতে সাহায্য করবে।

২. ঘুমানোর সময় কোনো দোলনা বা গতিবেধক ধরণের জিনিস ব্যবহার না করা

বেশিরভাগ বাবা মায়েরাই শিশুকে ঘুম পড়ানোর সময় দোলনা বা অন্য কোনো গতিবেধক জিনিস ব্যবহার করে থাকেন কারণ তাতে শিশুকে ঘুম পাড়ানো খুবই সহজ, এবং সেই কারণে আমরা বড় হওয়ার পরও গাড়িতে বা ঘোরানো চেয়ারে বা যেকোনো গতিবেধক জিনিসে বসে থাকলেই ঘুমন্ত বোধ করি। কিন্তু, এটি একটি ভালো বা শুভ লক্ষণ আদপেও নয়। যদি আপনি নিদ্রার জন্যে ক্রমাগত গতির ব্যবহার করেন, তাহলে শিশু দিনের বেশিরভাগ মুহূর্তে নিদ্রালু বোধ করে এবং তাদের জীবনের বাকি অংশের জন্য তারা বিরক্ত এবং হালকা ঘুম ঘুম ভাব সারাক্ষণই বোধ করবে। কাজেই, গতি ব্যবহার না করে শিশুকে সরাসসি বিছানায় নিয়ে শুয়ে আস্তে আস্তে ঘুম পাড়ানোর অভ্যেস করলে সেটি তার সারা জীবনের জন্যে সবোর্ত্তম ঘুমের উপায় হয়ে দাঁড়ায়।

৩. ঘুমের সঠিক সময়ের চেয়ে দেরি না করা

আপনার সন্তানের জন্য একমাসে এক বা দুদিন ঘুমোতে দেরি হতেই পারে, এবং সেটি খারাপ কিছু নয়। কিন্তু যদি তারা এটিকে থেকে একটি অভ্যাস করে ফেলে, তাহলে বাকি জীবনের জন্যেও এটি বদোভ্যেসে পরিণত হয়ে যাওয়ার প্রবণতা হয়ে দাঁড়ায়। এটি শুধুমাত্র ক্লান্তির কারণই হবে না, শিশু দিনে দিনে অলস হয়ে পড়বে। নিজেকে সতেজ ও স্বতঃস্ফূর্ত বোধ করানোর জন্যে ১০ ঘন্টা ঘুম প্রতিদিন প্রয়োজনীয়।

৪. বিক্ষিপ্ত পরিবেশ

যখন আপনার সন্তানের আশেপাশে খুব উত্তেজনা হয়, তখন তাদের পক্ষে বিছানায় যাওয়া হয়ে ওঠে। কিছু বাদ্যযন্ত্রের খেলনা, মিটমিটে লাইট বা চলন্ত খেলনাগুলির মতো জিনিসগুলি আপনার সন্তানের নিদারুণ মেজাজকে বিশৃঙ্খলাযা পরিণত করতে পারে, এবং ঘুম আসতে দেরি করায়।

৫. ঘরের অনুপযুক্ত ব্যবস্থা

এটা বিশ্বাস করা হয় যে শিশুরা অন্ধকার থেকে ভয় পায় এবং তাদের ঘুমের জন্য রাত্রে বা হালকা আলো দেয় বা মিটমিটে আকর্ষণীয় আলো জ্বালানো প্রয়োজন যাতে তারা ঘুমিয়ে পড়ে। কিন্তু, বাস্তবতা হল যে অন্ধকার, ঠান্ডা ঘরগুলি শিশুর ঘুমের জন্য সর্বোত্তম পরিবেশ। অন্ধকার সংক্রান্ত ভীতি যদি থেকেও থাকে সেগুলি একটু ব্যাখ্যা দিয়ে শিশুকে শান্ত করে ঘুম পাড়িয়ে দিলে সেটি শিশুর জন্যে সেরা উপায়।

৬. শিশুর বায়নায় বা কান্নায় বেশি সারা না দেওয়া

সাধারণত, সন্তানরা তাদের তিক্ততা বা কান্নার মাধ্যমে তাদের বাবা-মায়েরা কীভাবে এগিয়ে যেতে পারে তা দেখার জন্য ছিটকে পড়ে এবং কাঁদতে থাকে। যদি আপনি তাদের অশ্রুর মধ্যে বেশি সারা না দিয়ে তাদের ঘুমের সম্পর্কে নিয়ম স্থাপন করেন, তাহলেই আপনি প্রশিক্ষণ দিতে সফল হবেন।

৭. বারবার পাহারা না দেওয়া

যদিও শুনতে বা করতে এটি খুব শিশু সুলভ মনে হয়; প্রকৃতপক্ষে কিন্তু এটি আপনার সন্তানের ঘুম ব্যাঘাত হওয়ার কারণ হতে পারে। শিশু ঘুমিয়ে পড়লে মাঝে মাঝেই এসে পাহারা দেওয়া যে সে ঘুমোচ্ছে কি না যদি আপনার অনবরত অভ্যেস হয়ে থাকে তবে শিশুর ঘুম পাতলা হয়ে যায় ও সে মাঝে মাঝেই ছোটোখাটো শব্দের কারণে জেগে যেতে পারে যার ফলস্বরূপ সে সারাদিন ক্লান্ত ও বিরক্ত বোধ করবে। আবার একেবারে না দেখতে আসাটাও ঠিক নয়। তাই, বারবার না এসে, মাঝেসাঝে একবার কি দুবার এসে তাকে দেখে যাওয়া হল সবচেয়ে ভাল উপায়।

Click here for the best in baby advice
What do you think?
0%
Wow!
100%
Like
0%
Not bad
0%
What?
scroll up icon