Link copied!
Sign in / Sign up
6
Shares

৭ রকমের সস বানানোর ঘরোয়া পদ্ধতি

অসাধারন স্বাদ, ভেজাল বিহীন। আমাদের দেশের বাজারে পাওয়া সসে নানা বিধ ভেজাল দিয়ে থাকে বলে জানা যায়। টমেটর বদলে কুমড়া বা এই জাতীয় কিছু এবং মশলার বদলে নানান সুগন্ধি, রং উজ্জ্বল করার জন্য কাপড়ের রঙ, নষ্ট না হবার জন্য নানান ক্যামিকেল ব্যবহার করা হয়ে থাকে, যা খেতে ভাল লাগে কিন্তু শরীরের জন্য চরম ক্ষতিকারক হয়ে দাঁড়ায় এক সময়ে। কাজেই এগুলো এড়িয়ে চলাই ভাল। তাহলে আসুন নানা রকমের সস ঘরেই তৈরী করে ফেলার প্রস্তুতি নেওয়া যাক।

১. টমেটো সস

টমেটো সস, একটা জনপ্রিয় সহযোগী মুখরোচক খাবার। প্রতিদিন সকাল বিকেলের খাবারে, শিশুদের টিফিনে আপনার হয়ত এই খাবারের প্রয়োজন পড়ে কিংবা আপনি যখন মাছ মাংসের কোন খাবার রান্না করেন তখন হয় আপনার এই খাবারের প্রয়োজন পড়ে, কিন্তু বাজার থেকে কিনে আর শান্তি পাচ্ছেন না, তদুপরি এই ধরনের সসে বাজারে পাওয়া প্রায় সব গুলোতেই ভেজাল এবং স্বাস্থ্যের জন্য নিরাপদ নয়। তাই ঘরেই টমেটো সস বানিয়ে নিন, আর্থিকভাবে অনেক টাকা বেঁচে যাবে এবং পাবেন নিরাপদ সুস্বাদু সস। একবার বানিয়ে নিলে অনেক দিন চলে যাবে, ফ্রীজের নরমাল চেম্ভারে রেখেই অনেক দিন পার করে দিতে পারবেন।

পাকা টমেটো এই রান্নার প্রধান উপকরণ। বাজার থেকে দেখে দেখে পাকা টমেটো কিনুন।

উপকরন ও পরিমানঃ (মোটামুটি ৭৫০ গ্রামের উপকরণ)

টমেটো, ১ কেজি বা কম বেশী, এলাচি, ৩/৪ টা গুঁড়ো করে দিলে ভাল, দারুচিনি, ৩/৪ টুকরা * গুড়া করে দিলে ভাল, নুন, এক চা চামচের কম (পরে স্বাদ দেখে আরো দেয়া যেতে পারে), চিনি, ৪/৫ উচু টেবিল চামচ * স্বাদ বুঝে কম বেশী, লঙ্কা গুড়া, ১ চা চামচ, ভিনেগার, হাফ কাপ, জল, হাফ কাপের বেশী বা কম

প্রনালীঃ

টমেটো গুলো ধুয়ে কেটে পাত্রে নিন। হাফ কাপ জল দিয়ে আগুন মাধ্যম আঁচে রাখুন। এলাচি ও দারুচিনি গুঁড়ো বা চেঁছে এই সময়েই দিয়ে দিন। এরপর ঢাকনা দিন। মিনিট ৪০/৫০ ফুটুক, জল শুকিয়ে টমেটো নরম হয়ে গেলে ঘুটনী দিয়ে ঘুটে নিন। গ্যাস নিবিয়ে দিন, ঠান্ডা হয়ে যাক! ঠান্ডা হয়ে গেলে ছাঁকনি দিয়ে ছেঁকে নিন। টমেটো পেষ্ট হয়ে গেল। এবার আবার গ্যাসের মাধ্যম আঁচে বসিয়ে দিন। নুন ও চিনি দিন পরিমান মত। লংকার গুঁড়ো দিন। হাফ কাপ ভিনেগার দিন ও ভাল করে মিশিয়ে নিন। ঢাকনা দিয়ে গ্যাসের ধারে কাছেই থাকুন। কাঠের খুন্তি দিয়ে নাড়াতে থাকুন। পেষ্টের ঘনত্ব কেমন রাখবেন নিজেই নির্ধারন করুন। এই সময়েই স্বাদ দেখে নিন, নুন চিনির যদি প্রয়োজন হয় তবে তা দিন। ব্যস পরিবেশনের জন্য প্রস্তুত। আপনি চাইলে ঠান্ডা করে বোতলে ভরে রাখতে পারেন, ফ্রীজের সাধারন চেম্ভারে রেখে ইচ্ছা মত খেতে পারেন।

২. গ্রিন চিলি সস

আমরা ফাস্টফুড জাতীয় খাবার বা যেটাতে মশলা কম তার সাথে সস খেয়ে থাকি। টমেটো সস যেখানে সবচেয়ে জনপ্রিয় যারা একটু ঝাল খেতে পছন্দ করেন তাদের পছন্দের তালিকায় প্রথমে থাকে চিলি সস। রেড চিলি সসই বেশি পরিচিত তবে গ্রিন চিলি সসের রয়েছে আলাদা একটা ফ্লেভার। শিঙ্গারা, ভেজিটেবল রোল, রোল, বার্গার এর সাথে রেড চিলি সস ব্যবহার করা হয়ে থাকে। এখানে উভয় প্রকার চিলি সসের রেসিপি উল্লেখ করা হল

উপকরণ:

কাঁচা লঙ্কাঃ ১০০ গ্রাম, রসুনঃ ৫০ গ্রাম, শসা পিকেলসঃ ১/৪ কাপ, লেবুর রসঃ ১/৪ কাপ, সাদা সরিষাঃ ১/৪ কাপ, চিনিঃ ১ টেঃ চামচ, নুনঃ পরিমাণমতো

প্রণালী:

সমস্ত উপকরণ একসাথে ব্লেন্ডারে ব্লেন্ড করে নিতে হবে। তৈরি হয়ে গেল গ্রিন চিলি সস।

৩. রেড চিলি সস

লাল কাঁচা লঙ্কাঃ ১০০ গ্রাম, রসুনঃ ৫০ গ্রাম, টমেটো পিউরিঃ ১/২ কাপ, সাদা সিরকা/ভিনেগারঃ ১/২ কাপ, নুনঃ পরিমাণমতো, চিনিঃ ৩ টেঃ চামচ

প্রণালী:

সমস্ত উপকরণ একসাথে ব্লেন্ডারে ব্লেন্ড করে নিতে হবে। কিছুক্ষণ গ্যাসে জ্বাল দিয়ে ঘন করে নিতে হবে। তারপর আর কিছুক্ষণ আগুনে দিয়ে নামাতে হবে।

৪. পাস্তা ওয়াইট সস

উপকরনঃ

মোটামুটি মাঝারি এক বাটি হোয়াইট সসের জন্যঃ

মাখনঃ ৫ টেবিল চামচ, ময়দাঃ ১/২ কাপ, দুধঃ দুই কাপ, জয়ফল গুড়াঃ ১/৪ চা চামচ (বেশী হলে তিতে ভাব এসে যাবে), গোল লঙ্কাের গুড়াঃ ১/২ চা চামচ, টেষ্টিং সল্টঃ ১/২ চা চামচ বা কম, চিনিঃ ২ চা চামচ, নুন: ১ চা চামচ (বা লাগলে পরে দেয়া যেতে পারে)

প্রণালিঃ

কড়াই গরম হলে তাতে মাখন দিন। মাখন গলে গেলে তাতে নুন দিন। তাতে প্রথমে ময়দা দিন। ভাল করে নাড়িয়ে দিন, নাড়ানো থামাবেন না। আগুন কম আঁচে রেখে এবার দুধ দিন। গোল লঙ্কাের গুড়া এবং জয়ফলের গুড়া দিন। এবার চিনি দিন। আগুন মাঝারি বা কমে থাকবে। প্রথম বলক (এই শব্দের সঠিক বাংলা আমার জানা নেই) উঠলেই আগুন থামিয়ে দিন।

৫. পিজ্জা সস

উপকরণ

টমেটো পিউরি ১ কেজি (পাকা টমেটো কে হালকা সিদ্ধ করে ব্লেন্ড করে নেওয়া), রসুন ২ টেবিল চামচ, চিনি ২ চা চামচ, লঙ্কা গুড়া ২ চা চামচ, গোল লঙ্কা ১ ১/২ চা চামচ, ওরিগেনো ২ চা চামচ, বেসিল ২ চা চামচ, তেল ৪ টেবিল চামচ, লবন স্বাদ মত

প্রণালি

১। প্রথমে তেলে রসুন হালকা করে ভেজে নিতে হবে। তারপর, টমেটো পিউরি ও চিনি দিয়ে ৫ মিনিট ভালো করে নেড়ে; এরপর বাকি সব মশলা দিয়ে নেড়ে মিশিয়ে নামিয়ে ফেলুন, আর ফ্রিজে রেখে একটি ইয়ার টাইট কন্টেনারে!

৬. মেয়নেজ

উপকরনঃ

ডিমের কুসুম ১টি , নুন, সরিষাঃ গুঁড়া ১/ ২ চা চামুচ , লেবুর রস বা সিরকা ২টেবিল চা, চিনি ১/ ২ চা চামুচ , সালাদ অয়েল ৩ /৪ কাপ

প্রণালিঃ

একটি বাটিতে ডিমের কুসুম, সরিষা, চিনি ও অর্ধেক নুন মিশিয়ে; এক টে.চামচ সিরকাও দাও। বিটার বা হুইস্ক দিয়ে ফেটে; ২ফোঁটা করে তেল দিতে হবে। জোরে ফেটতে হবে। ১ /৪ কাপ এর মত তেল মিশানো শেষ হলে মেয়নেজ ঘন হয়ে আসবে। বাকি নুন দিতে হবে এবং ১ চা চামচ করে তেল দিয়ে ফেটতে হবে। তেল শেষ হয়ে গেলে ১টে.চামচ সিরকা দিয়ে ফেটতে হবে। বড় মুখের বোতলে ভরে রেফ্রিজারেটরে রাখলে অনেক দিন ভাল থাকবে!

ভেজিটেবিল ওয়েল অথবা সয়াবিন তেল ব্যবহার করা যাবে। সয়াবিন তেল ব্যবহার করলে, প্রথমে তেল গরম করে তারপর আবার ঠাণ্ডা ব্যাবহার করতে হবে।

৭. বারবিকিউ সস

উপকরণ:

টমেটো পিউরিঃ ১ কাপ, জল: ১/২ কাপ, ব্রাউন সুগারঃ ৫ টেবিল চামচ (স্বাদ অনুযায়ী), Worcestershire সসঃ ২ টেবিল চামচ, সিরকাঃ ১/৪ কাপ, গোলমরিচ গুঁড়োঃ ১/২ টেবিল চামচ, পেঁয়াজ বাটাঃ ১ টেবিল চামচ, রসুন মিহিঃ ১ টেবিল চামচ, সরিষা বাটাঃ ১/২ টেবিল চামচ, লেবুর রসঃ ১ টেবিল চামচ, অলিভ ওয়েলঃ ২ টেবিল চামচ, নুন সামান্য

প্রণালিঃ

প্যানে তেল গরম করুন। তারপর পেঁয়াজ, রসুন ও সামান্য নুন দিয়ে ভাজুন। পেঁয়াজ ও রসুন নরম হয়ে গেলে টমেটো পিউরি দিয়ে দিন। আরও একটু ভাজুন। তারপর জল দিয়ে লেবুর রস বাদে বাকি সব উপকরণ দিয়ে দিন ও মাঝারি আঁচে নেড়ে নেড়ে জ্বাল দিন। সস ঘন হয়ে গেলে লেবুর রস দিয়ে নামিয়ে ফেলুন। যারা ঝাল চান তারা প্রাপরিকা পাউডার বা মরিচ গুঁড়ো ব্যবহার করতে পারেন। মিষ্টি চাইলে ব্রাউন সুগার বাড়িয়ে দেবেন। এই সস ফ্রিজে এক সপ্তাহ পর্যন্ত ভালো লাগবে। ডিপে থাকবে আরও একটু বেশী।

Click here for the best in baby advice
What do you think?
0%
Wow!
0%
Like
0%
Not bad
0%
What?
scroll up icon