Link copied!
Sign in / Sign up
14
Shares

৫ বছরের মেয়ে একদিনে হাটতে ভুলে গেলো কিভাবে? উত্তর খুঁজতে গিয়ে তার মা যা খুঁজে পেলেন তা জানলে শিউরে উঠবেন!


বুধবার সকাল, অন্যদিনের মতো ঘুম থেকে উঠে মাটিতে পা দিলো কাইলিন গ্রিফিন, কিন্তু সে দাড়াতে পারলো না। বারবার চেষ্টা করেও সে পরে গেলো। তার মা জেসিকা গ্রিফিন লক্ষ্য করলো মেয়ে কথা বলতেও পারছে না।

একদিন আগেও পরিবারের সবাই যখন টি বল খেলছিল কাইলিন সম্পূর্ণ সুস্থ ছিল। এক রাতের মধ্যে কি কাইলিন এর সাথে এমন কি হলো যে সে হাটতে ভুলে গেলো?

তার মা লক্ষ্য করলো কাইলিন এর মাথায় "টিক্", বাংলায় আমরা যাকে এটুল পোকা বলি।

মেয়ের চুল বাঁধ তে গিয়ে জেসিকা দেখলো মেয়ের মাথায় রক্ত চুষছে এই পোকা। সঙ্গে সঙ্গে পোকাটি ছাড়িয়ে প্লাষ্টিক ব্যাগে বন্দী করে মেয়েকে নিয়ে হসপিটালের দিকে ছুটলো মা জেসিকা। ডাক্তার বললো কাইলিন "টিক্ প্যারালাইসিস" এর স্বীকার।

মিসিসিপি গ্রানাডা এর গ্রিফিন বুধবার তার ফেসবুকের এক পোস্টে লেখেন - " দয়া করে আপনার বাচ্চাকে এটুল পোকার থেকে দূরে রাখুন। বড় দেড় থেকে বাচ্চা দেড় এই রোগের সম্ভবনা অনেক বেশি "। অনেক পরীক্ষা এর পর ডাক্তারা নিশ্চিত করে এটা " টিক্ প্যারালাইসিস " ।

সাধারণত এপ্রিল থেকে সেপ্টেম্বর এর মধ্যে এই এটুল পোকার সংখ্যা বাড়ে। "মার্কিন লিন ডিশিস ফাউন্ডেশন " জানায় যে “মেয়ে এটুল পোকারা প্রথম এ শরীর থেকে রক্ত চুষে খায় তারপর একধরণের রস সেই স্থান এ ভরে দেয়। এর ৫-৭ দিন পর রোগের উপসর্গ দেখা যায়। প্রথমে পা অবশ হতে শুরু করে আর তারপর শরীরের উপরের অংশ অবশ হতে শুরু করে। এরপর রোগী চলাচল করতে পারে না। আরো কিছুদিন পর রোগীদের মুখ ও জিভ অবশ হয়ে যায় এবং কোনো চিকিৎসা না হলে ধীরে ধীরে শরীরের সম্পূর্ণ শ্বাস প্রশ্বাস ব্যবস্থা নষ্ট হয়ে যায়।"

এই পোকার আক্রমণ মূলত পশুদের উপর বেশি লক্ষ্য করা যায়। কিন্তু মানুষ, বিশেষত শিশুদের ও এই পোকা আক্রমণ করে। মেয়েদের লম্বা চুল থাকায় তারমধ্যে ঢুকে এরা সহজেই আক্রমণ করতে পারে।

“সি দি সি” এর রিপোর্ট অনুযায়ী এটি একটি বিরল রোগ। ২০০৬ সালে এক ৬ বছরের মেয়ে তার ঠাকুমার কাছে পাহাড়ি এলাকা থেকে ঘুরে আসার পর হঠাৎ করে হাটতে চলতে সমস্যায় পরে , আয়া তাকে স্নান করিয়ে পরে হাসপাতাল ভর্তি করে এবং সেখান তার মাথায় এটুল পোকা খুঁজে পাওয়া যায়।

গতবছর আমন্ড লুইস সকালে উঠে লক্ষ্য করে তার মেয়ে এভেলিন অনেক চেষ্টা করেও হাটতে পারছে না। কি কারণে এরম হচ্ছে জানার জন্য সে পুরো ঘটনার ভিডিও করে ফেসবুকে আপলোড করে। ভিডিও টি ২২০ লক্ষ লোক দেখে এবং ৬ লক্ষ মানুষ সেটি শেয়ার করে। ডাক্তার জোন পেজ সেদিন মেয়েটিকে দেখে অনুমান করে সে টিক্ প্যারালাইসিস এ আক্রান্ত। পরে তিনি মেয়েটির মাথায় এটুল পোকাটি খুঁজে পান আর সেটি ফেলে দেয়ার সাথে সাথেই মেয়েটি সুস্থ হয়ে ওঠে এবং পর দিন থেকেই হাটা চলা করতে পারে।

মিসিসিপি এর কাইলিন গ্রিফিন ও একই ভাবে চটজলদি সুস্থ হয়ে ওঠে। তার মায়ের শেষ তোলা ছবিতে দেখা যাচ্ছে মেয়েটি সুস্থ আছে ও দুটো বেলুন নিয়ে হাসপাতাল এ খেলা করছে।

ফেসবুকে মা গ্রিফিন লেখেন " দেখুন কে হাটছে। সব কিছু আবার আগের মতো ঠিক হয়ে গেছে। অশেষ ধন্যবাদ ভগবানকে। " 

Click here for the best in baby advice
What do you think?
0%
Wow!
0%
Like
0%
Not bad
0%
What?
scroll up icon