Link copied!
Sign in / Sign up
5
Shares

৫টি উত্তর ভারতীয় শিশু খাদ্য রন্ধন প্রণালী


গবেষণাতে দেখা গিয়েছে, যে সমস্ত শিশুদের ভিন্ন ভিন্ন মসলা, স্বাদ ও গন্ধের খাবার দেওয়া হয়, তাদের ভবিষ্যতে খাদ্যদ্রব্যের পছন্দের ব্যাপারে খুঁত খুঁতে হওয়ার সম্ভাবনা কম থাকে। সুতরাং আপনি যদি আপনার শিশুকে খাদ্য বৈচিত্রের সঙ্গে পরিচিত করাতে চান তবে ভারতবর্ষ তার জন্য আদর্শ জায়গা। ১00ওর বেশী মসলা সমৃদ্ধ ভারতীয় খাবার স্বাস্থ্য এবং রসনাগুণে অনন্য। এখানে ৫ টি উত্তর ভারতীয় খাবার রন্ধন প্রণালী দেওয়া হয়েছে যে খাবারগুলি আপনার হামাগুড়ি দিতে শুরু করা বা শক্ত খাবারে অভ্যস্ত হওয়া বাচ্চাকে দিতে পারেন।

১। গাজরের ক্ষীর

শিশুর খাবারে সব্জী শুরু করার জন্য গাজর খুব ভাল। গাজর শিশুদের পক্ষে খাওয়া এবং হজম করাও সহজ। এছাড়াও বেশীরভাগ শিশুই গাজর পছন্দ করে কারণ সম্ভবত এটি একটি অন্যতম মিষ্টি সব্জী এবং বাচ্চারা সহজাতভাবে মিষ্টিপ্রিয় হয়। গাজর খুব পুষ্টিকরও বটে কেননা এটি ভিটামিন-এ সমৃদ্ধ যা শিশুর চোখের পক্ষে ভাল। যদিও আপনার শিশু ৬ মাস বয়স অতিক্রান্ত করার পরই তাকে গাজর দিন কারণ গাজরে এমন কিছু নাইট্রেট এবং রাসায়নিক পদার্থ আছে যা শিশুদের মধ্যে অ্যানিমিয়ার সৃষ্টি করতে পারে। তাছাড়াও গাজরে আছে ফাইবার, লোহা, ক্যালসিয়াম এবং ভিটামিন-সি।

 

২। মেথী খিচুড়ী

আগে মনে করা হত শিশুর খাবারে মেথী বিপজ্জনক, কিন্তু এখন বোঝা গেছে যে মেথী শিশুর পক্ষে সম্পূর্ণ নিরাপদ এবং খুব স্বাস্থ্যকর। যদিও শিশুকে আপনি কত পরিমাণ মেথী দিচ্ছেন তা নিয়ন্ত্রণ করতে হবে, যেহেতু এর কিছু পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া আছে। খিচুড়ীকে ভারতে একটি আরামদায়ক খাদ্য হিসাবে গণ্য করা হয় এবং বাস্তবিকভাবেই এটি খুব সুস্বাদু খাবার। খিচুড়ী খাদ্যগুণে পরিপূর্ণ এবং খুব সহজ্পাচ্য, যা বাচ্চাদের জন্য আদর্শ। কিন্তু আপনার শিশুর বয়স ১১ মাসের বেশী হলে তবেই বাচ্চাকে এই খাবার দিন। 

৩। মূগ ডালের স্যূপ

মূগডাল প্রোটিনে পরিপূর্ণ এবং খুবই স্বাস্থ্যকর, যেহেতু এই খাদ্য শারীরিক প্রতিরোধ ক্ষমতা বজায় রাখতে সাহায্য করে। মূগ ডালের স্যূপ আপনার বাচ্চার জন্য খুব সম্পূর্ণ এবং আরামদায়ক একটি খাবার কারণ এটি শরীরকে পুষ্টি দেয়, ঠান্ডা ও সর্দি কাশি দূর করে, এমনকি জলশোষণ (ডিহাইড্রেসন) এবং ফ্লু থেকেও রক্ষা করে। এই বিশেষ ডালটি প্রোটিন, ভিটামিন এবং খনিজ পদার্থ (মিনারেল)-এ সমৃদ্ধ। এটি যকৃত (লিভার)-কে রক্ষা করে এবং এই খাবার হজম করা সহজ। এছাড়া এটি আপনার শিশুর রোগ-প্রতিরোধ ব্যবস্থাকে উন্নত করে, অর্থাৎ আপনার সন্তান সর্দিকাশি এবং সাধারন অসুস্থতার থেকে নিজেকে রক্ষা করতে পারে। তবে আপনার শিশুর বয়স ৬ মাসের বেশী হলে তবেই অন্য খাবারের সঙ্গে তাকে এই ডাল দিন।

 ৪। আপেল রাগি হালুয়া

এই প্রবচনটি বাস্তবিকভাবে সত্য – “প্রতিদিন একটি আপেল খেলে, ডাক্তার বদ্যি না দেখালেও চলে।” [An apple a day keeps doctor away.]

শিশুদের জন্য আপেল খুব স্বাস্থ্যকর, কারণ আপেল পাকস্থলীর সমস্যা, কোষ্টকাঠিন্য, ডায়ারিয়া ও আমাশয় নিরাময়ে সাহায্য করে। এটি কাশি কমাতে, দাঁতের স্বাস্থ্য বৃদ্ধি করতে এবং দাঁতের সমস্যা সারাতে সাহায্য করে। এটা মনে রাখা জরুরী যে শিশুর বয়স ৬ মাস কালের বেশী হলে তবেই শিশুকে এই ফল খেতে দেওয়া শুরু করা যায়। কিন্তু লক্ষ্য রাখতে হবে যে আপেলের বীজ যেন শিশুর কাছে না যায়, কারণ সেটি শিশুর পক্ষে মোটেও ভালো নয়। রাগিও খুব পুষ্টিকর শস্য এবং অনেক খাদ্যগুণসম্পন্ন। এই দুটি মিশিয়ে একটি হালুয়া তৈরি করতে পারলে শিশুর জন্য তা সবচেয়ে ভাল ও উপকারি খাদ্য হবে। 

৫। আলু ভাত

শিশুর খাদ্য তালিকায় আলু থাকা উচিৎ কারণ আলু হজম করা সহজ এবং এটি আপনার শিশুকে প্রচুর শক্তি দেয় যাতে সে সচল এবং চনমনে থাকে। আলু অনেক ভিটামিন এবং খনিজ খাদ্যদ্রব্যের উৎস এবং এটি যকৃৎ কে সুরক্ষা দেয়। আপনার বাচ্চাকে আলু দেওয়ার আগে দেখে নিন্ যাতে আলুগুলি পরিস্কার ভাবে ধোয়া থাকে এবং আলুর খোসা ছাড়ানো থাকে। শিশুর বয়স ৭ মাস বা ৮ মাসের বেশী হলে তবেই আলু শুরু করা উচিত। আলু এবং ভাতের একটি মিশ্রণ শিশুকে দিলে আপনি নিশ্চিন্ত হতে পারেন যে আপনার বাচ্চা দিনের প্রয়োজনীয় পুষ্টি পেয়ে যাচ্ছে। এটি হজম করা সহজ এবং এমন একটি খাদ্য যা আপনার শিশু পছন্দ করতে বাধ্য।

শিশুদের জন্যে নরম মিশ্রনের খাদ্য প্রণালী জানতে এখানে ক্লিক করুন

এক বছর শিশুর জন্যে কিছু সহজ স্বাস্থকর রেসিপি জানতে এখানে ক্লিক করুন

Click here for the best in baby advice
What do you think?
0%
Wow!
0%
Like
0%
Not bad
0%
What?
scroll up icon