Link copied!
Sign in / Sign up
12
Shares

স্বামীর সাথে এগুলি উপভোগ করবেন না, তা হয় নাকি?


আপনি কি মনে করেন যে জীবনের উত্তাপ কমে যাচ্ছে? সেই রহস্য যা আপনার স্বামীকে আপনাকে ভালবাসতে, আপনার সংস্পর্শে থাকতে এবং আপনার সঙ্গে কথা বলতে উদ্দীপ্ত করে? সেই উত্তেজনা যা তাকে আপনার কাছে টেনে নিয়ে আসে। সেই রসায়ন যা বিস্ময় ও রহস্যকে জিইয়ে রাখে। যখন আপনি অভিভাবক তখন বাচ্চাদের ছেড়ে অন্যদিকে বেশী মনোযোগ দেওয়া কঠিন হয়ে পড়ে। বাচ্চারা কোথায় আছে? তারা কী করছে? তারা কেমন আছে ইত্যাদি। এগুলি নিশ্চিতভাবেই আপনার বিবাহিত জীবনের স্বাদ অনেকটা কেড়ে নেয়। আপনি এবং আপনার সহযাত্রী স্বামীর মধ্যে যে সম্পর্কের রসায়ন গড়ে উঠেছিল তা সম্পূর্ণতঃ অন্য মাত্রা পায়, কেননা আপনারা নিজেদের সম্পর্কের মধ্যে ছোট্ট ছোট্টো মানুষ সংযুক্ত হয়েছে।

যদিও এর মানে এই নয় যে আপনাদের সম্পর্ক ধ্বংস হয়ে গেছে। এর অর্থ এই যে আপনাদের পারস্পরিক ভালবাসা, নির্ভরশীলতা এবং বিশ্বাস বজায় রাখার জন্য দুজনকেই বাড়তি কিছু করতে হবে। এই ভাবনাতেই সংকুচিত হয়ে পড়বেন না কেননা এটা শুনতে যদিও জটিল মনে হচ্ছে কিন্তু আদতে এর মধ্যে লুকিয়ে আছে অনেক মজা।

ছোট্ট করে বলতে হলে একটি সামান্য কথা বলতে হয় যে উন্নততর সম্পর্কের জন্য একটু সচেষ্ট হোন। এর জন্য আপনারা দুজনে ব্যক্তিগতভাবে কাছাকাছির আসার সুযোগ তৈরি করুন বা একত্রে সময় কাটান বা ঘুরে আসুন। আপনার কোন আত্মীয় বা বন্ধুকে খুঁজে বের করুন যার কাছে আপনি আপনার বাচ্চাকে রেখে যেতে পারেন, সেইসময় স্বামীর সঙ্গে বাইরে কোথাও সপ্তাহ খানিকের জন্য একসঙ্গে ছুটি কাটান। নিজেদের মধ্যের প্রেমানুভূতিকে পুনরায় জাগিয়ে তুলুন, পারস্পরিক সম্পর্ককে নতুন করে আবিস্কার করুন, মজা করুন, অর্থাৎ নিজেদের সঙ্গসুখকে উপভোগ করুন।

এইলক্ষ্যে সহায়তা দেওয়ার জন্য আমারা ৭ টি উপায়ের উদাহরণ দিচ্ছে যা আপনাকে সাহায্য করবে।

১। রঙ

পার্টিতে মজা নিতে ভালবাসেন এমন মানুষের জন্য রঙ ভারতবর্ষে আয়োজিত সবথেকে বড় বৈদ্যুতিন সঙ্গীত উৎসব যা হোলী উৎসবের সঙ্গে একসঙ্গে পালিত হয় এবং মজার মাত্রাও সমানভাবে বেড়ে যায়। এই অনুষ্ঠান প্রতি বছর দিল্লীতে আয়োজিত হয় এবং এখানে স্বামী স্ত্রী একসঙ্গে অংশগ্রহণ করার মত বিভিন্ন পার্টি গেমসের আয়োজন থাকে যেমন বৃষ্টি নৃত্য এবং পানীয় প্রতিযোগিতা। এই প্রতিযোগিতাতে ভারতবর্ষের শ্রেষ্ঠ শিল্পীরা, এমনকি বিখ্যাত আন্তর্জাতিক শিল্পীরাও, অংশগ্রহণ করেন। সুতরাং আপনি আড়ষ্টতা ঝেড়ে ফেলুন এবং কয়েকদিনের জন্য সব ভুলে স্ফূর্তি করুন।

২। ফায়ার ফ্লাইস

এটি একটি অর্গান বাজনার উৎসব যা প্রতিবছর ব্যাঙ্গালোরে অনুষ্ঠীত হয়। এই অনুষ্ঠানের সবথেকে ভাল দিক যে এখানে আপনি অর্থ ব্যয় করতে রাজি হবেন কারণ এই টাকা আদিবাসী বাচ্চাদের পড়াশুনার জন্য ব্যয় করা হয়। এই অনুষ্ঠান সন্ধ্যা ৭টা থেকে পরদিন সকাল ৭টা পর্যন্ত ১২ ঘন্টা ব্যাপী চলে এবং এখানে আপনি প্রকৃতির সঙ্গে একাত্ম বোধ করবেন, যখন আপনি দেখবেন যে বড় একটি বটগাছের নীচে ব্যান্ড বাজান হচ্ছে। জায়গাটি শহরের বাইরে একটি লেকের ধারে হওয়ার ফলে আপনি আশপাশের অন্য অভিযানমূলক কাজকর্মের সঙ্গেও নিজেকে যুক্ত করার সু্যোগ পাবেন।

৩। গোয়া

যেকোন সময়ে গোয়ায় ঘুরতে যাওয়া যায়। বেশীরভাগ ভারতীয়দের, এমনকি বিদেশীদের কাছেও, এটি ছুটি কাটানোর জন্য ভারতের সবথেকে জনপ্রিয় জায়গা। যদি আপনি সাধারনের উর্দ্ধে কিছু করতে আগ্রহী হন গোয়াতে এরকম দুটো বড় আয়োজন আছে যেখানে আপনি আনন্দ পেতে পারেন। প্রথমটি সানবার্ণ মিউজিক ফেস্টিভ্যাল যা প্রতি বছর ডিসেম্বর মাসে গোয়াতে অনুষ্ঠিত হয়। যেসব শিল্পীরা আসেন তাদের মধ্যে বৈদ্যুতিক যন্ত্র সঙ্গীতে শিল্প ক্ষেত্রে বিখ্যাত শিল্পীরাও আছেন। একসঙ্গে আপনার কাছে দুটি দুনিয়া খুলে যাবে। আপনি বৈদ্যুতিক যন্ত্র সঙ্গীতের সঙ্গে সঙ্গে সমুদ্রতটে শান্তিপূর্ণ সমুদ্রের শব্দ শুনতে পাবেন। দ্বিতীয় উৎসবটি হল গোয়া কার্নিভ্যাল, মারডি গ্রাস অনুষ্ঠানের স্থানীয় সংস্করণ। যদিও এটি প্রধানতঃ একটি খৃস্টান উৎসব, কিন্তু এই মজার উৎসব সবাই উপভোগ করতে পারেন। এই উৎসব শুরু হয় অ্যাশ বুধবারের আগের শণিবার এবং প্রথম ইস্টার-এর প্রথম দিনকে নির্দেশ করে। সুতরাং আপনার স্বামীকে সঙ্গে নিয়ে বেড়িয়ে পড়ুন, কিছু বৈচিত্র্যপূর্ণ অভিজ্ঞতা অর্জন করুন এবং আঞ্চলিক খাবারের স্বাদ গ্রহণ করুন।

৪। জয়সলমীর

রাজস্থানের জয়সলমীর একটি অভিজাত সংস্কৃতির শহর। মরুভূমির মধ্যে অবস্থিত এই শহর আপনাকে দেশ সম্বন্ধে সম্পূর্ণ নতুন অভিজ্ঞতা দিতে পারে। জয়সলমীর বালুপাহাড়ের মধ্যে অনুষ্ঠিত হওয়া মরু উৎসব আপনাকে সেই সংস্কৃতির স্পর্শ পাওয়ার অভিজ্ঞতা দিতে পারে। এই উৎসব প্রতিবছর ফেব্রুয়ারী মাসে আয়োজিত হয় যেখানে আপনি পেতে পারেন বিভিন্ন দক্ষ শিল্পীদের যারা প্রদর্শন করেন পুতুলনাচ, আঞ্চলিক লোকগীতি, আগুন নৃত্য, আকর্ষক শারীরিক কসরত এবং আরও অন্যান্য দক্ষতা। যদি এইসময়ে আপনি এখানে যান, তবে আপনি উটের পিঠে চড়ে মরুভূমির মধ্যে বেড়াতে যেতে পারেন, কিন্তু খেয়াল রাখুন যে উটের পিঠে চড়া খুব সহজ কাজ নয়। আপনি অনেক চেষ্টা করার পর হয়ত দেখতে পেলেন যে উটের পিঠের পরিবর্তে আপনি মাটিতে পড়ে আছেন। বছরের শেষের দিকে আর একটি উৎসব হয় নভেম্বর মাসে। এটি রাজস্থানের সঙ্গীত উৎসব। এই উৎসব আপনার কাছেবৈচিত্র্যপূর্ণ সংস্কৃতির শিল্পীদের উপস্থিত করাবে যেখানে আপনি বালুপাহাড়ের মধ্যে তারাভরা আকাশের নীচে তাঁবু ফেলে থাকতে পারবেন। এই অনুষ্ঠান তিন্ দিন ধরে চলে এবং আপনার ভিতরের ভ্রমণপিপাসুকে জাগিয়ে তোলে।

৫। কশৌলি ছন্দ এবং নীল উৎসব

এই সঙ্গীতানুষ্ঠান আয়োজিত হয় হিমাচল প্রদেশের কশৌলিতে। এই অনুষ্ঠান আপনার মনের ভিতরের ভ্রমণ পিপাসা মেটানোর সঙ্গে সঙ্গে আপনার সঙ্গীতানুরাগকেও সন্তুষ্ট করতে পারে। আপনি জেড, রক অ্যান্ড রোল, ব্লুজ, ফোক-রক, ফাঙ্ক এবং বিভিন্ন সুরের তালে আন্দোলিত হতে হতে প্রাণভরে ধীরেসুস্থে শহর থেকে দূরের বরফাচ্ছাদিত পর্বতশৃঙ্গের দৃশ্য দেখতে পারেন এবং আমোদিত হতে পারেন। এই আরামদায়ক আবহাওয়ায় বেড়ানোর জন্য আপনি যে অর্থ ব্যয় করেন তা ব্যবহার করা হয় অসুস্থ শিশুদের চিকিৎসা পরিষেবা দেওয়ার কাজে।

এবছর আপনার স্বামির সঙ্গে কিছুটা একান্ত সময় কাটান - জায়গাটি দেশের কোন নির্জন প্রান্তীয় অঞ্চলে বা সদাব্যস্ত মনুষের ভীড়ের শহরেও হতে পারে। কে বলতে পারে আপনি আপনার নিজের মধ্যে বা আপনাদের সম্পর্কের মধ্যে নতুন কোন আনন্দের আঙ্গিক খুঁজে পাবেন কিনা? আপনার নিজের নিশ্চয়তার যে অঞ্চলকে আপনি আরামদায়ক মনে করেন তা ভেঙ্গে বেরোতে দ্বিধা করবেন না।      

Click here for the best in baby advice
What do you think?
0%
Wow!
0%
Like
100%
Not bad
0%
What?
scroll up icon